<strong>দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে দীর্ঘদিন ধরে মজুদ থাকা বিপুল পরিমাণ কয়লা বিক্রি না হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে ভেসে গিয়ে কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে| খনির খোলা ইয়ার্ডে রাখা কয়লার স্তুপে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কয়লার গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে| এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে|</strong>
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ কয়লা দীর্ঘদিন ধরে খনির সংরক্ষণ ইয়ার্ডে পড়ে রয়েছে|
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিক্রি বা সরবরাহ না হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে রাখা কয়লার ওপর কয়েক দফা ভারী বৃষ্টিপাত হয়| এতে অনেক কয়লা পানির সঙ্গে ভেসে গিয়ে ড্রেন দিয়ে ক্যানেলে ভেসে চলে যায়|
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে কয়লার স্তুপের নিচে পানি জমে ছোট ছোট স্রোতের সৃষ্টি হয়| এতে কয়লার একটি অংশ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং কালো পানির সঙ্গে মিশে নষ্ট হয়ে যায়| এছাড়া ভেজা কয়লার তাপ উৎপাদন ক্ষমতাও কমে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা|
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও দ্রুত বিক্রির উদ্যোগ না নেওয়ায় সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ অপচয়ের মুখে পড়েছে| তারা খনির ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন|
একাধিক শ্রমিক জানান, খনিতে উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও মজুদ কয়লার পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে| কিন্তু সেই তুলনায় বিক্রি বা সরবরাহ না হওয়ায় খনির ইয়ার্ডে জায়গা সংকটও দেখা দিয়েছে|
এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাহিদা কম থাকায় কিছু কয়লা মজুদ রয়েছে|
তবে দ্রুত কয়লা বিক্রি ও সংরক্ষণের উন্নত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে| পাশাপাশি বৃষ্টির পানিতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ|
এদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র খনির ইয়ার্ডে মজুদ কয়লা নিতে পারছেন না| কারণ ১নং &ধসঢ়;ইউনিটি বছরে ২০-২৫ বার নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে এবং মেরামত করে চালু করেন| এদিকে ৩নং ইউনিটটি গত ০৩মাস ধরে মেরামত চলছে| আর ২য় ইউনিটি প্রায় আট বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে| এ কারণে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা নিতে পারছে না তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র|
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌ. মোঃ শাহ আলম জানান, কোল ইয়ার্ডে সাড়ে ৫ লক্ষ টন কয়লা মজুদ রয়েছে| আর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিদিন ৬-৭ শত মেট্রিকটন কয়লা সরবরাহ করা হচ্ছে| এতে কয়লা মজুদ দিন দিন বাড়ছে|
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রক্ষায় আধুনিক সংরক্ষণ
ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি| অন্যথায় প্রতি বছরই এ ধরনের ক্ষতির ঘটনা
ঘটতে পারে|
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোফাচ্ছিলুল মাজেদ
মাজেদা মনজিল, মালদাহপট্টি
দিনাজপুর-৫২২০
মোবাঃ ০১৭১৪৯১০৭৭৯, ০১৭৭২৯৩৩৬৮৮
ই-মেইলঃ [email protected], [email protected]
দিনাজপুর বার্তা ২৪