
<strong>দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক প্রবল ঝড়ে মুহূর্তেই বদলে গেছে স্বাভাবিক জীবনচিত্র। ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য ঘরবাড়ি ও দোকানপাট লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে; উপড়ে পড়েছে বড় বড় গাছপালা, নুয়ে পড়েছে মাঠের পাকা ধান। ভেঙে পড়া গাছ বৈদ্যুতিক খুঁটি ও লাইনের ওপর পড়ায় বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, অন্ধকারে ডুবে থাকে জনপদ।</strong>
শনিবার (১৬ মে) দিনগত রাত ২টার পর থেকে দফায় দফায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এই ঝড় আঘাত হানে। তীব্র মেঘের গর্জন আর অনবরত বিজলি চমকানোর সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টি—সব মিলিয়ে গভীর রাতে মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ ধেয়ে আসা ঝড়ে গোবিন্দপুর, হোসেনপুর, খামারপাড়া, আঙ্গারপাড়া, ছাতিয়নগড়সহ বিভিন্ন গ্রামের কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ির চাল উড়ে গেছে। বাজারের দোকানপাটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক ও মহাসড়কের ওপর বড় গাছ উপড়ে পড়ায় ভোর পর্যন্ত কোথাও কোথাও যান চলাচল বন্ধ ছিল।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, “আমার ঘর আর রান্নাঘরের টিনের চাল সম্পূর্ণ উড়ে গেছে; এক রাতেই সব শেষ।”
আরেক বাসিন্দা জসিম উদ্দিন জানান, সেল্টুশাহ মাদ্রাসা থেকে পাকেরহাটগামী সড়কে সরকারি প্রায় ২০–২২টি বড় গাছ উপড়ে পড়ে মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষকদের কণ্ঠেও হতাশা; ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে পাকা ধান মাটিতে নুয়ে পড়ায় ধান কাটার ঠিক আগে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি আমি সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের তালিকা করতে বলেছি। তালিকা তৈরি হলে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, আগামী কয়েক দিনে মাঝে মাঝে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। তিনি বলেন, চলতি মে মাসের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকলেও তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ও পরিমাণ কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে ওই সময় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে গরমের মাত্রা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ঝড়ের পরদিন বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি, পড়ে থাকা গাছ আর নুয়ে পড়া ধানক্ষেত—সব মিলিয়ে খানসামাজুড়ে এখন শুধু ক্ষতির হিসাব আর অনিশ্চিত অপেক্ষা।
