
“সু-শিক্ষার অধিকার, ছেলে মেয়ে সবার”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দিনাজপুরে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘শিক্ষা সম্মেলন-২০২৬’। উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ শিশু একাডেমি অডিটোরিয়ামে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের অর্থায়নে এবং জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই সম্মেলনে উত্তরবঙ্গের ২৭টি প্রকল্পের প্রায় ৪০০ শিশু শিক্ষার্থী ও স্টাফ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) নূর-ই আলম সিদ্দিকী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ম্যানেজার অব পার্টনারশিপ মলিনা কর্মকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা এম এ ওয়াহেদ, শিক্ষা অফিসার খন্দকার মোঃ আলাউদ্দীন আল আজাদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার এবং সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আসিফ ফেরদৌস।
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল উচ্চশিক্ষায় সফল হওয়া শিক্ষার্থীদের জীবন সংগ্রামের গল্প। যেখানে বীরগঞ্জের বীথি রায় তার রাজশাহী মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পড়ার অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। একইভাবে কাহারোলের অঞ্জলি রায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস এবং মিঠাপুকুরের কাকলী রায় হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে মাস্টার্স করার সফলতার কথা উপস্থিত শিশুদের সামনে তুলে ধরেন। তাদের এই সাফল্যগাথা উপস্থিত শত শত শিক্ষার্থীর মাঝে নতুন করে অনুপ্রেরণা যোগায়।
সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেশন পরিচালিত হয়। প্রথম সেশনে শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন জেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার মোঃ আলাউদ্দীন আল আজাদ। দ্বিতীয় সেশনে শিশু ও যুবকদের সামাজিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার। সবশেষে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আসিফ ফেরদৌস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, শিশুদের মেধা বিকাশে এ ধরনের সম্মেলন অত্যন্ত সময়োপযোগী। প্রতিকূল পরিবেশ জয় করে শিক্ষার্থীরা যেভাবে উচ্চশিক্ষায় নিজেদের স্থান করে নিচ্ছে, তা সত্যিই গর্বের। সম্মেলনের শেষ পর্বে মার্গারেট মালাকার কলি এবং পরিমল হেমব্রমের সঞ্চালনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী এই সফল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিকেলে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।
