
প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ট্রেন ভ্রমণে ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ে।
আগামীকাল সোমবার থেকে দেশজুড়ে এই নতুন সুবিধা কার্যকর হতে যাচ্ছে। আজ রোববার এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে বাংলাদেশ রেলওয়েকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়।
পরিপত্র অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকেরা এই ছাড়ের আওতায় আসবেন। অনলাইনে টিকিট কেনার সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) মাধ্যমে বয়স স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে। এই ছাড় শুধুমাত্র মূল ভাড়ার (ভিত্তিমূল্য) ওপর কার্যকর হবে; তবে সার্ভিস চার্জ, ভ্যাটসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ফি নিয়মিত হারেই দিতে হবে। অনলাইন ও কাউন্টার- উভয় মাধ্যমেই প্রবীণরা এই সুবিধা পাবেন, তবে এর জন্য যাত্রীকে রেলওয়ের ‘রেলসেবা’ অ্যাপে নিবন্ধিত হতে হবে। একজন সিনিয়র সিটিজেন যাত্রার তারিখ অনুযায়ী সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুবার এই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। কোনো যাত্রী টিকিট ফেরত দিলে সেটি সাপ্তাহিক হিসাব থেকে বাদ যাবে এবং তিনি ওই সপ্তাহে আবার ছাড়ের টিকিট কাটার সুযোগ পাবেন। প্রবীণ ব্যক্তির সহযাত্রীর ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ভাড়া প্রযোজ্য হলেও, সহযাত্রী নিজেও প্রবীণ হলে এবং নিজস্ব ভেরিফায়েড নম্বর থাকলে প্রতি বুকিংয়ে সর্বোচ্চ একজন অতিরিক্ত প্রবীণ সহযাত্রী এই ছাড় পাবেন।
অন্যদিকে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘সুবর্ণ’ পরিচয়পত্রধারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন। আন্তনগর ট্রেনের সুলভ বা শোভন শ্রেণিতে (এবং এই শ্রেণি না থাকলে শোভন চেয়ারে) মোট ভাড়ার ওপর আগের নিয়মেই ৫০ শতাংশ ছাড় বহাল থাকবে। এর পাশাপাশি নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) শ্রেণিতে তাদের জন্য ২৫ শতাংশ ছাড় যুক্ত হবে। তবে ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জ আগের মতোই প্রযোজ্য থাকবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আপাতত কেবল স্টেশন কাউন্টার থেকে এই ছাড়ের টিকিট ইস্যু করা হবে। পরবর্তীতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এটি অনলাইনে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিচয়পত্রধারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সহযাত্রীকে অবশ্য নিয়মিত ভাড়াই পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া, স্বল্প দূরত্বের কমিউটার ট্রেনে শিক্ষার্থীদের ইউনিফায়েড পরিচয়পত্র চালু হওয়ার পর তাদের জন্য টিকিটে ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
