দিনাজপুর বার্তা২৪ ডেক্স: বাংলাদেশ সরকার শিশু-সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। যার সফলতা বেশ লক্ষ্যণীয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও শিশুর প্রতি শারীরিক সহিংসতার হার কমেনি বরং নিত্যনতুন পন্থা ও মাধ্যম ব্যবহার করে শিশুদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে। ইউনিসেফ পরিচালিত জরিপের তথ্যমতে, ১-১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৮২% শিশুই বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার। শিশুর প্রতি এই সহিংসতার বিষয়টি তুলে ধরতে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, ওয়ার্ল্ড ভিশন ও শিশু অধিকার এ্যাডভোকেসি জোট যৌথভাবে “আমিই পারি শিশুর প্রতি শারীরিক সহিংসতা রোধ করতে” শীর্ষক একটি প্রচারাভিযান আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে। এই প্রচারাভিযানের লক্ষ্য হলো শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের পরিচালিত উদ্যোগগুলোকে সহায়তা করা; বিশেষ করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ১৬.২ (শিশুর প্রতি অনাচার, দুর্ব্যবহার, পাচার, এবং সব ধরণের সহিংসতা ও নিপীড়ন বন্ধ করা) প্রতিষ্ঠিত করা।
গত ২৩ মার্চ সকাল ১০.১০ টায় আশাশুনি পাথেয় ট্রেনিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আশাশুনি এডিপি ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার সুভাস মন্ডল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুষমা সুলতানা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা জোহরা, পিআইও সেলিম খান এবং আশাশুনি প্রেসক্লাব সভাপতি জিএম মুজিবুর রহমান। এছাড়া বেসরকারী সংস্থা, শিশু, অভিভাবক স্থানীয় গণ্যমান্য ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ওয়ার্ল্ড ভিশনের এই প্রচারাভিযানের লক্ষ্য এসডিজি লক্ষ্যমাত্রার সাথে সঙ্গতি রেখে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে শিশুর বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রে শিশুর প্রতি শারীরিক সহিংসতা বন্ধে অবদান রেখে বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ শিশুর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। এই উদ্দেশ্যে ওয়ার্ল্ড ভিশন বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সহিংসতা বন্ধে কাজ করবে। যা সামাজিক রীতিনীতি, আচার আচরণ এবং স্বভাব পরিবর্তনের মাধ্যমে সর্বস্তরে শিশু-সুরক্ষার সিস্টেমগুলিকে জোরদার করবে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ দেশের ৩৪টি জেলার ৮০০টি শিশু ফোরামের মাধ্যমে প্রায় ২ লক্ষ শিশু প্রতিনিধির সাথে এই লক্ষ্য পূরণে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং শিশু অধিকার এ্যাডভোকেসি জোট সক্রিয়ভাবে মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে শিশুর প্রতি সব ধরণের সহিংসতা বন্ধে কাজ করবে।